নাগরিক কাকে বলে ? এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, যার উত্তর জানতে দেশের আইন, অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রয়োজন। বাংলাদেশের আইনি পরিসরে নাগরিক হওয়ার মানে শুধুমাত্র কোনও একটি দেশের বাসিন্দা হওয়া নয়, বরং তার অধিকার ও দায়িত্বের প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধতা প্রকাশ করা। নাগরিকত্ব একজন ব্যক্তির রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে তার পরিচয় তৈরি করে, যা তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধিকার, যেমন ভোটাধিকার, সরকারি সেবা এবং সংবিধান দ্বারা রক্ষিত সুরক্ষা প্রদান করে।
যখন আমরা নাগরিক বলতে বুঝি, তখন সেটি শুধুমাত্র আইনি নাগরিকত্ব নয়, বরং দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশের সুরক্ষায় অংশগ্রহণ এবং নাগরিক হিসেবে পূর্ণ দায়িত্ব পালনও আসে। এই নিবন্ধে, আমরা বাংলাদেশের নাগরিকত্বের শর্ত, অধিকার, দায়িত্ব এবং নাগরিক হওয়ার প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো।
নাগরিক কাকে বলা হয়?
বাংলাদেশে, “নাগরিক” কাকে বলা হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই বলতেই হবে, নাগরিক (Citizen) হলো সেই ব্যক্তি, যিনি একটি দেশে আইনগতভাবে বসবাসকারী এবং ঐ দেশটির আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। নাগরিকেরা দেশটির সরকার থেকে স্বীকৃত এবং তাদের বিভিন্ন অধিকার ও সুবিধা পাওয়া নিশ্চিত থাকে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, নাগরিক হতে হলে, একটি ব্যক্তি অবশ্যই বাংলাদেশের অধিবাসী হতে হবে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। একটি দেশের নাগরিক হওয়া মানে সেই ব্যক্তির তার দেশটির আইন, শাসনব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক অধিকার সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করার অধিকার পাওয়া। বাংলাদেশে নাগরিক হওয়ার জন্য বিভিন্ন শর্ত রয়েছে এবং ওই শর্ত অনুযায়ী একজন ব্যক্তি নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত হতে পারেন।
নাগরিকদের অধিকার কী কী?
নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হলো,
- ভোটাধিকার: নির্বাচনে ভোট দেওয়া, যা দেশের রাজনৈতিক সিস্টেমে অংশগ্রহণের অন্যতম উপায়।
- আইনি সুরক্ষা: নাগরিকদের জন্য সংবিধান নিরাপত্তা প্রদান করে, যাতে তাদের কোন ধরনের বৈষম্য বা অবিচারের শিকার না হতে হয়।
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা: নাগরিকরা সরকারের দেওয়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা সুবিধা পায়।
এছাড়া, নাগরিকরা দায়িত্বও পালন করে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, কর প্রদান, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ ইত্যাদি।
নাগরিক হওয়ার শর্ত
নাগরিক হওয়ার জন্য বিভিন্ন শর্ত রয়েছে, যা বাংলাদেশের আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে, নাগরিক হওয়ার প্রক্রিয়া ও শর্তগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব
বাংলাদেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত হলো, যদি একজন ব্যক্তি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে, যদি ব্যক্তির পিতা বা মাতা বাংলাদেশি নাগরিক না হন, তবে তাকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য আরও কিছু শর্ত পূরণ করতে হতে পারে।
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, একজন বিদেশি নাগরিক যে ব্যক্তি বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করবেন, তাকে বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিশেষ শর্ত রয়েছে। যেমন, জন্মের পর ১৯৭২ সালের পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করা হয়েছে, যাতে প্রজন্মের মাঝে বিশেষ কিছু দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়।
পিতৃসূত্রে নাগরিকত্ব
যদি কোনও ব্যক্তি বিদেশে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তার পিতা বা মাতা যদি বাংলাদেশের নাগরিক হন, তবে তাকে পিতৃসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকে। এটি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি সাধারণ প্রক্রিয়া, যেখানে জন্মের স্থানে নয়, পিতার নাগরিকত্বকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
এই শর্ত অনুযায়ী, পিতৃসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য সেই ব্যক্তি অথবা তার পিতা-মাতা বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, এটি একটি পুরানো প্রথা।
প্রাকৃতিককরণ বা প্রাকৃতিক নাগরিকত্ব
এটি একটি বিশেষ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন বিদেশী নাগরিক বাংলাদেশে নাগরিক হতে পারে। সাধারণত, এই প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিককরণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্দিষ্ট সংখ্যক বছরের জন্য বাংলাদেশে বসবাস করতে হয়।
নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া বা Naturalization: প্রাকৃতিককরণ বা নাগরিকত্ব প্রাপ্তির জন্য, বিদেশী নাগরিককে বাংলাদেশের আইনের অধীনে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
- পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় বাংলাদেশের মধ্যে বাস করা।
- দেশের আইন মেনে চলা এবং দেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
নাগরিকত্বের প্রকারভেদ
বাংলাদেশে নাগরিকত্বের বিভিন্ন ধরণ রয়েছে, যা আইন, সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন অনুসারে পৃথকভাবে বিবেচিত হয়। মূলত, নাগরিকত্বের প্রকারভেদ নাগরিকত্ব অর্জনের পদ্ধতি এবং বিভিন্ন অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে।
একক নাগরিকত্ব
বাংলাদেশে একক নাগরিকত্ব একটি সাধারণ প্রবণতা। এর মানে হলো, যে ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক, তিনি শুধুমাত্র বাংলাদেশে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত থাকেন। এতে কোনো দ্বৈত নাগরিকত্ব বা বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ থাকে না।
একক নাগরিকত্বের সুবিধা:
- রাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ দায়বদ্ধতা থাকতে হয়, যার মাধ্যমে ব্যক্তি দেশের উন্নয়ন, সুরক্ষা এবং আইন মেনে চলতে সহায়তা করেন।
- বাংলাদেশে ভোটাধিকার এবং সরকারি সেবা লাভের মাধ্যমে নাগরিকের বিশেষ অধিকার থাকে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব
বাংলাদেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব আইনগতভাবে নিষিদ্ধ, অর্থাৎ একটি ব্যক্তি যদি অন্য কোনও দেশে নাগরিকত্ব লাভ করেন, তবে তাকে বাংলাদেশে নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় না। যদিও অনেক দেশ দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে, বাংলাদেশে এটি অনুমোদিত নয়।
দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবিধাগুলি:
- দুটি দেশের নাগরিকত্ব পেয়ে ব্যক্তি দুই দেশের সকল সুবিধা ও অধিকার উপভোগ করতে পারেন।
- বিদেশে ব্যবসা বা পড়াশোনা করার সুযোগ বৃদ্ধি পায়, কিন্তু বাংলাদেশে নাগরিকত্বের শর্তও থাকে।
গণনা নাগরিকত্ব
বাংলাদেশে গণনা নাগরিকত্ব কোনও বিশেষ গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। এর মানে হলো, একটি গোষ্ঠী একত্রে নাগরিকত্ব লাভ করতে পারে, যা কোনও বিশেষ আইনি বা রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবহার হতে পারে।
এই ধরনের নাগরিকত্ব সাধারণত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বা বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বসবাসকারী মানুষদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে।
নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া
নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেহেতু এটি রাষ্ট্রের প্রতি ব্যক্তির আইনগত দায়বদ্ধতা স্থাপন করে। বাংলাদেশে নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া তিনটি প্রধান উপায়ে হয়ে থাকে: জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব, পিতৃসূত্রে নাগরিকত্ব এবং প্রাকৃতিককরণ (Naturalization)।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব
বাংলাদেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য একটি ব্যক্তি যদি বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে গণ্য হন। এর জন্য তার পিতা-মাতার নাগরিকত্বের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে যদি পিতার নাগরিকত্ব বাংলাদেশের হয়, তবে তাকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
এই শর্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:
- যদি কোনো বিদেশী বাবা-মা বাংলাদেশের ভূমিতে সন্তান জন্ম দেন, তবে সন্তানকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দেওয়া হতে পারে, যদি তারা আইনত নাগরিক হিসেবে নিবন্ধিত থাকেন।
- তবে, যদি ব্যক্তি উক্ত সময় অন্য কোনও দেশের নাগরিক হন, তবে সেই ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের দাবি জটিল হতে পারে।
পিতৃসূত্রে নাগরিকত্ব
পিতৃসূত্রে নাগরিকত্ব অর্জন করা আরও একটি প্রচলিত পদ্ধতি। যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পিতা বা মাতা বাংলাদেশি নাগরিক হন, তবে সে পিতৃসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ করবে।
এ ক্ষেত্রে, পিতার বা মায়ের নাগরিকত্বের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পিতৃসূত্রে নাগরিকত্বের জন্য একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার জন্য সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।
প্রাকৃতিককরণ বা প্রাকৃতিক নাগরিকত্ব
এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যেখানে একজন বিদেশী ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারেন। সাধারণত, এই প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিককরণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। অর্থাৎ, ব্যক্তি পাঁচ বছরের বেশি সময় বাংলাদেশে বসবাস করলেই তার নাগরিকত্বের আবেদন মঞ্জুর হতে পারে।
এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী শর্তগুলো:
- বিদেশী নাগরিককে বাংলাদেশের আইন, ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- প্রাকৃতিককরণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে এবং আবেদনটি যাচাই-বাছাইয়ের পর নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
নাগরিকদের অধিকার এবং দায়িত্ব
নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব, দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা কোনও রাষ্ট্রের নাগরিককে একটি সুষ্ঠু এবং নিরাপদ জীবনযাপন করার সুযোগ দেয়। নাগরিক হওয়ার পর, ব্যক্তি শুধু সুবিধা ভোগ করেন না, তার কিছু মৌলিক দায়িত্বও রয়েছে, যা সমাজের সুষ্ঠু কার্যক্রমে সহায়তা করে।
নাগরিকের অধিকার (Rights of Citizens)
বাংলাদেশের নাগরিকদের বেশ কিছু মৌলিক অধিকার রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম:
- ভোটাধিকার: নাগরিকরা নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভোট প্রদান করতে পারেন। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
- শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা: নাগরিকদের জন্য মৌলিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়।
- আইনগত সুরক্ষা: নাগরিকদের প্রতি আইনের অধীনে সুরক্ষা দেওয়া হয়, যাতে তারা বৈষম্য বা অন্য যেকোনো প্রকার অবিচারের শিকার না হন।
নাগরিকের দায়িত্ব (Duties of Citizens)
একজন নাগরিকের কিছু মৌলিক দায়িত্বও রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- আইনের প্রতি শ্রদ্ধা: নাগরিকদের আইন মান্য করা এবং দেশের নিয়ম-কানুন অনুযায়ী চলা বাধ্যতামূলক।
- কর প্রদান: দেশের উন্নয়ন এবং জাতীয় খাতের জন্য নাগরিকদের কর প্রদান করা।
- জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি দায়বদ্ধতা: দেশের সুরক্ষায় নাগরিকদের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।
নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন এবং প্রাসঙ্গিক পরিবর্তনসমূহ
বাংলাদেশে নাগরিকত্ব আইন সময়-সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে এবং এসব পরিবর্তন নাগরিকত্বের শর্ত এবং প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন করা হয় যখন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা জনগণের বিভিন্ন দাবির ভিত্তিতে নতুন নিয়মকানুন বা শর্ত যোগ করা হয়।
নাগরিকত্ব আইনের পরিবর্তন:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনের প্রথম বড় পরিবর্তন করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, জাতিগত ও রাজনৈতিক কারণের জন্য কিছু মানুষের নাগরিকত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল।
- ১৯৭২ সালে, বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকত্ব আইন সংক্রান্ত কিছু বিশেষ ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা বর্তমান নাগরিকত্ব আইনকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দেয়।
- ২০১৬ সালে, নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করা হয়, যাতে প্রাকৃতিককরণ প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয় এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে নাগরিকত্বের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়।
নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন:
যদিও বাংলাদেশে নাগরিকত্বের সম্পর্কিত কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, তবে এটি এখনও এমন একটি বিষয় যা রাজনৈতিক এবং সামাজিক আলোচনা সৃষ্টি করে। নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া কখনো কখনো বিতর্কিত হতে পারে, বিশেষ করে যদি এটি দেশীয় বা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলে।
নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ
নাগরিকত্বের বিষয়টি শুধু একটি দেশের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নাগরিকত্বের আইন আলাদা হয় এবং অনেক দেশে নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া একটি ব্যক্তির আন্তর্জাতিক পরিচিতির অংশ হিসেবে কাজ করে।
দেশী নাগরিকত্ব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক:
- অনেক দেশ দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমোদন দেয়, কিন্তু বাংলাদেশে এটি নিষিদ্ধ।
- আন্তর্জাতিক আইনে নাগরিকত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, অভিবাসন এবং রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের ক্ষেত্রে। নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়ের পাশাপাশি তাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কও একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক নাগরিকত্ব সম্পর্ক:
বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং চুক্তির অংশ হিসেবে নাগরিকত্ব বিষয়ক নানা আইনি দায়িত্ব পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের নাগরিকেরা যদি অন্য দেশে বসবাস করেন, তবে তাদের কাছে প্রবাসী নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য আইনি সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকে।
নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি
নাগরিকত্বের ভবিষ্যত এবং এর আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে। আধুনিক বিশ্বের নাগরিকত্বের ধারণাটি আর আগের মতো সীমাবদ্ধ নয়। এখন নাগরিকত্বের প্রশ্নটি রাষ্ট্রীয় সীমানা ছড়িয়ে আরও বিস্তৃত হতে চলেছে।
ডিজিটাল নাগরিকত্ব:
বর্তমানে ডিজিটাল নাগরিকত্ব একটি নতুন ধারার শুরু হয়েছে, যা মানুষের ভার্চুয়াল উপস্থিতির অধিকার এবং দায়িত্বকে নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিতে নাগরিকরা যে ধরনের অধিকার এবং দায়িত্ব পালন করেন, তা এখন আন্তর্জাতিক আইন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা পর্যালোচিত হচ্ছে।
নাগরিকত্বের আধুনিক চ্যালেঞ্জ:
আজকের বিশ্বে, নানা সামাজিক, রাজনৈতিক এবং পরিবেশগত কারণে নাগরিকত্বের চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, রাজনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন পরিস্থিতি নাগরিকত্বের প্রশ্নকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে, কিছু দেশ নাগরিকত্বের সাথে সংযুক্ত অধিকার ও সুবিধাগুলির প্রসঙ্গ পরিবর্তন করছে।
আরও পড়ুন: বয়স্ক ভাতা আবেদন: প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক সুরক্ষার সহজ পদ্ধতি
উপসংহার
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সম্পর্কিত এই নিবন্ধে আমরা নাগরিক কাকে বলে, নাগরিক হওয়ার শর্ত, অধিকার ও দায়িত্ব এবং নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। একটি দেশ এবং তার নাগরিকদের সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি জাতির শক্তি এবং উন্নতির প্রমাণ। নাগরিকরা তাদের দেশের সাংবিধানিক অধিকার, আইন এবং দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে অবদান রাখে।
নাগরিকত্বের অধিকার এবং দায়িত্বের সঠিক ধারণা ব্যক্তির নিজস্ব জীবন এবং দেশের সমগ্র উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, নাগরিকত্বের সংজ্ঞা এবং প্রক্রিয়া শুধু আইনগত নয়, এটি মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের ধারণা আরও বিস্তৃত ও আধুনিক হতে চলেছে এবং এর উপর বিস্তারিত আলোচনা বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
নাগরিক কাকে বলে যদি এই বিষয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে নিচে মন্তব্য করুন। পোস্টটি যদি তথ্যবহুল মনে হয়, তবে এটি আপনার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ!