মেট্রোরেলের সময়সূচি ও ভাড়া: ২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য

Mybdhelp.com-মেট্রোরেলের সময়সূচি
Photo Credit : wikimedia.org

 মেট্রোরেলের সময়সূচি, ঢাকা শহরের যানজট কমাতে মেট্রোরেল একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। ২০২৫ সালে মেট্রোরেল চালুর মাধ্যমে রাজধানী শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। মেট্রোরেল যাত্রীদের দ্রুত এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ প্রদান করছে। এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৫ সালের মেট্রোরেলের সময়সূচি, ভাড়া কাঠামো, এবং টিকিট সিস্টেম সম্পর্কে বিস্তারিত জানব, যাতে আপনি সহজে এবং সুবিধাজনকভাবে মেট্রোরেল ব্যবহার করতে পারেন।

মেট্রোরেলের সময়সূচি (মে ২০২৫ অনুযায়ী)

ঢাকা মেট্রোরেল সপ্তাহে ৭ দিন নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী চলাচল করে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সময়সূচীতে ভিন্নতা রয়েছে। বর্তমানে মেট্রোরেল উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রুটে চলাচল করছে।

পরিচালনার সময়:

  • রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার:
    • উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল: সকাল ৭:১০ থেকে রাত ৯:০০ পর্যন্ত।
    • সকাল ৭:১০ থেকে ৭:৩০ পর্যন্ত: প্রতি ১০ মিনিট পরপর।
    • এবং সকাল ৭:৩১ থেকে ১১:৩৬ পর্যন্ত (পিক আওয়ার): প্রতি ৮ মিনিট পরপর।
    • সকাল ১১:৩৭ থেকে দুপুর ২:৩৬ পর্যন্ত (অফ-পিক): প্রতি ১০ মিনিট পরপর।
    • দুপুর ২:৩৭ থেকে রাত ৮:২০ পর্যন্ত (পিক আওয়ার): প্রতি ৮ মিনিট পরপর।
    • রাত ৮:২১ থেকে রাত ৯:০০ পর্যন্ত: প্রতি ১০ মিনিট পরপর।
    • মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তর: সকাল ৭:৩০ থেকে রাত ৯:৪০ পর্যন্ত।
      • সকাল ৭:৩০ থেকে সকাল ৮:০০ পর্যন্ত: প্রতি ১০ মিনিট পরপর।
      • সকাল ৮:০১ থেকে দুপুর ১২:১৬ পর্যন্ত (পিক আওয়ার): প্রতি ৮ মিনিট পরপর।
      • দুপুর ১২:১৭ থেকে দুপুর ৩:১৫ পর্যন্ত (অফ-পিক): প্রতি ১০ মিনিট পরপর।
      • দুপুর ৩:১৬ থেকে রাত ৯:০০ পর্যন্ত (পিক আওয়ার): প্রতি ৮ মিনিট পরপর।
      • রাত ৯:০১ থেকে রাত ৯:৪০ পর্যন্ত: প্রতি ১০ মিনিট পরপর।
  • শনিবার:
    • উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল: সকাল ৭:১০ থেকে রাত ৯:০০ পর্যন্ত।
      • সকাল ৭:১০ থেকে সকাল ১০:৩২ পর্যন্ত: প্রতি ১২ মিনিট পরপর।
      • সকাল ১০:৩৩ থেকে রাত ৯:০০ পর্যন্ত: প্রতি ১০ মিনিট পরপর।
    • মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তর: সকাল ৭:৩০ থেকে রাত ৯:৪০ পর্যন্ত।
      • সকাল ৭:৩০ থেকে সকাল ১১:১২ পর্যন্ত: প্রতি ১২ মিনিট পরপর।
      • সকাল ১১:১৩ থেকে রাত ৯:৪০ পর্যন্ত: প্রতি ১০ মিনিট পরপর।
  • শুক্রবার:
    • উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল: দুপুর ৩:০০ থেকে রাত ৯:০০ পর্যন্ত (প্রতি ১০ মিনিট পরপর)।
    • মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তর: দুপুর ৩:২০ থেকে রাত ৯:৪০ পর্যন্ত (প্রতি ১০ মিনিট পরপর)।
    • শুক্রবার টিকিট সংগ্রহের সময়: উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে দুপুর ২:৪৫ মিনিট এবং মতিঝিল স্টেশন থেকে দুপুর ৩:০৫ মিনিট থেকে সিঙ্গেল জার্নি টিকিট ক্রয় করা যাবে।

স্টেশনভিত্তিক প্রথম ও শেষ ট্রেন (সাধারণ ধারণা):

ট্রেন উত্তরা  বা মতিঝিল থেকে যাত্রা শুরু করে ক্রমান্বয়ে স্টেশনগুলোতে পৌঁছায়। তবে, শেষ ট্রেনের সময় রাত ৯:০০ (উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিলগামী) এবং রাত ৯:৪০ (মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তরগামী) টার্মিনাল স্টেশন থেকে ছাড়ার সময় দ্বারা সীমাবদ্ধ। কোনো মধ্যবর্তী স্টেশনের শেষ ট্রেন এই সময়ের পরে হতে পারে না। 

স্টেশনপ্রথম ট্রেন (আনুমানিক)শেষ ট্রেন (টার্মিনাল সময় অনুযায়ী)
উত্তরা উত্তর৭:১০ AM৯:০০ PM (মতিঝিলগামী)
উত্তরা সেন্টার৭:১২ AM
উত্তরা সাউথ৭:১৪ AM
পল্লবী৭:১৮ AM
মিরপুর-১১৭:২২ AM
মিরপুর-১০৭:২৬ AM
কাজীপাড়া৭:৩০ AM
শেওড়াপাড়া৭:৩৪ AM
আগারগাঁও৭:৩৮ AM
বিজয় সরণি৭:৪২ AM
ফার্মগেট৭:৪৬ AM
কাওরান বাজার৭:৫০ AM
শাহবাগ৭:৫৪ AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়৭:৫৮ AM
বাংলাদেশ সচিবালয়৮:০২ AM
মতিঝিল(উত্তরা উত্তরগামী ৭:৩০ AM)৯:৪০ PM (উত্তরা উত্তরগামী)

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

  • সকল স্টেশনের টিকিট কাউন্টার ও টিকিট বিক্রয় মেশিন রাত ৮:৫০ মিনিটে বন্ধ হয়ে যায়।
  • উত্তরা উত্তর থেকে সকাল ৭:১০ ও ৭:২০ মিনিটের ট্রেনে এবং মতিঝিল থেকে রাত ৯:১৩ মিনিটের পরের ট্রেনগুলোতে শুধুমাত্র MRT Pass বা Rapid Pass ব্যবহার করে ভ্রমণ করা যাবে।

মেট্রোরেলের ভাড়া (মে ২০২৫ অনুযায়ী)

মেট্রোরেলের ভাড়া দূরত্ব অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ৫ টাকা। সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা এবং উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বর্তমান সর্বোচ্চ ভাড়া ১০০ টাকা। সরকার কর্তৃক ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মেট্রোরেলের টিকিটের উপর ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

  • দূরত্বভিত্তিক ভাড়ার তালিকা (উদাহরণস্বরূপ):
    • উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও: ৬০ টাকা
    • এবং উত্তরা উত্তর থেকে ফার্মগেট: ৭০ টাকা
    • উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল: ১০০ টাকা
    • মিরপুর-১০ থেকে ফার্মগেট: ৩০ টাকা
    • মিরপুর-১০ থেকে মতিঝিল: ৬০ টাকা

ভাড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা:

  • MRT Pass বা Rapid Pass ব্যবহারকারীগণ: প্রতি যাত্রায় ১০% ছাড় পাবেন।
  • যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা: বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনা ভাড়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন।
  • বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিগণ: বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে একক যাত্রার টিকিটে ১৫% ছাড় পাবেন।
  • শিশু: ৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উচ্চতার শিশুরা অভিভাবকের সঙ্গে বিনা ভাড়ায় ভ্রমণ করতে পারবে।

টিকিট ও রিচার্জ সিস্টেম

মেট্রোরেলে যাত্রীদের জন্য দুটি প্রধান টিকিট ক্রয়ের মাধ্যম রয়েছে:

  1. নগদ টিকিট:
    প্রতিটি স্টেশন থেকে নগদ টিকিট কিনতে পারবেন, যা নির্দিষ্ট রুটের জন্য ভাড়া অনুযায়ী হবে।
  2. রিচার্জেবল স্মার্ট কার্ড:
    স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে যাত্রীরা দ্রুত প্রবেশ করতে পারবেন এবং এটি অনলাইনে অথবা স্টেশন কাউন্টারে রিচার্জ করা যাবে।

এছাড়াও, স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করলে, প্রতিবার যাত্রা শেষে একটি সস্তা খরচে নতুন রিচার্জ করা যায়, যা মেট্রোরেলের প্রতিটি স্টেশন থেকে সহজেই সম্পন্ন করা সম্ভব।

মেট্রোরেল যাত্রার সুবিধা ও গুরুত্ব

ঢাকা শহরের যানজট প্রতিদিন ক্রমাগত বাড়ছে, এবং এই সমস্যা সমাধানে মেট্রোরেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মেট্রোরেল যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করছে, যা তাদের যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী করে তুলবে।

১. যানজট কমানো:

মেট্রোরেল ঢাকায় দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত ব্যবস্থা প্রদান করবে, যার ফলে যানজট কমানোর পাশাপাশি সময়ও বাঁচবে। এক্ষেত্রে, মেট্রোরেল বাস বা অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় অনেক দ্রুত পৌঁছাতে সহায়ক।

২. পরিবেশবান্ধব:

মেট্রোরেল একটি পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে, কারণ এটি সড়কপথের যানবাহনের তুলনায় অনেক কম পরিবেশ দূষণ করবে। এর ফলে ঢাকা শহরের পরিবেশও সুস্থ থাকবে।

৩. সামাজিক উন্নয়ন:

মেট্রোরেল একদিকে যেমন জনগণের জন্য সুবিধা এনে দেবে, অন্যদিকে এটি কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি হবে।

৪. স্বাস্থ্যকর যাত্রা:

মেট্রোরেল ব্যবহারকারী যাত্রীরা একটি সুস্থ পরিবেশে যাতায়াত করতে পারবেন, যেখানে দূষিত গাড়ির ধোঁয়া ও জটিল পরিবহন পরিস্থিতি থাকবে না। এর ফলে যাত্রীরা আরও সুস্থ এবং সুরক্ষিত অনুভব করবেন।

মেট্রোরেল যাত্রার জন্য প্রস্তুতি

মেট্রোরেলে যাত্রা করার আগে কিছু প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন। এই প্রস্তুতিগুলি নিশ্চিত করবে যে, আপনি দ্রুত এবং সুষ্ঠুভাবে আপনার যাত্রা সম্পন্ন করতে পারবেন।

১. স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ:

মেট্রোরেল যাত্রা শুরু করার আগে, আপনাকে একটি স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এটি স্টেশন কাউন্টার থেকে বা অনলাইনে কেনা যাবে। স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করলে, আপনি দ্রুত এবং সহজভাবে ট্রেনে চড়তে পারবেন।

২. সময়সূচি মেনে চলা:

মেট্রোরেল চলাচলের সময়সূচি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম এবং শেষ ট্রেনের সময় জানিয়ে রাখলে, আপনি নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রা শুরু করতে পারবেন এবং আপনাকে কোন সমস্যায় পড়তে হবে না।

৩. নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা:

মেট্রোরেলে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। যাত্রীরা নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চললে, ট্রেনে যাতায়াত আরো নিরাপদ হবে। স্টেশন এবং ট্রেনের ভেতরে নিরাপত্তা কর্মীরা উপস্থিত থাকেন, যারা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

উপসংহার:

ঢাকা মেট্রোরেল এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এটি একটি পরিবেশবান্ধব, দ্রুত, এবং সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা যা ঢাকা শহরের যাতায়াত ব্যবস্থাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। সময়সূচি, ভাড়া কাঠামো, টিকিট সিস্টেম এবং যাত্রার সুবিধা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানলে, যাত্রীরা মেট্রোরেল ব্যবহারে আরও বেশি আগ্রহী হবেন এবং ঢাকায় চলাচল আরও সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন হবে।

মেট্রোরেল ঢাকা শহরের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নাগরিকরা অনেক দ্রুত এবং সাশ্রয়ীভাবে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, যা ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনবে।

মেট্রোরেলের সময়সূচি : যদি এই বিষয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে নিচে মন্তব্য করুন। পোস্টটি যদি তথ্যবহুল মনে হয়, তবে এটি আপনার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top